নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বাঁকুড়াঃ আজ বাঁকুড়া শহর লাগোয়া রাজগ্রাম এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৪ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের নাম ঋষভ কর্মকার। ঋষভ তার দাদুর সঙ্গে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিল। পুলিশের প্রিজ়ন ভ্যান সাইকেলে ধাক্কা মারলে গুরুতর আহত হন দু’জনে। সঙ্গে সঙ্গে দু’জনকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার রাজগ্রাম এলাকায় বেসরকারি স্কুলে পড়ত ঋষভ। স্থানীয় রামকৃষ্ণ পল্লি এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ রঞ্জিত কর্মকার নাতিকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ে বাঁকুড়া শহরের দিক থেকে পুয়াবাগানগামী পুলিশের ওই গাড়ি সাইকেলের পিছনে ধাক্কা মারে। কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় ওই পড়ুয়া। আহত হয়েছেন তার দাদুও। প্রতক্ষ্যদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার পরেই প্রিজন ভ্যানের চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারাই আহত দু’জনকে উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়।

ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাঁকুড়ার বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রাস্তার বেহাল অবস্থা ও সরকারি রাস্তা বেদখল হওয়ার বিষয় তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, পুলিশের গাড়ির চালক দোষ করে থাকলেও তিনি কোনওভাবেই ছাড়া পাবেন না। যদিও স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘পুলিশের গাড়িটা ধাক্কা মারার পরে দাঁড়াল না। তাদেরই উচিত ছিল দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।’’ বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ জানান, ‘‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ওই এলাকার সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হবে। গাড়ির পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়েছে দু’জনে। কেউ দোষী হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারের পাশে আমরা আছি।’’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









