রায়া দাসঃ কলকাতাঃ নজিরবিহীন ঘটনা। কালীঘাটপন্থী তথা বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বের করে দেওয়া হল হাউসের ভিতর থেকে। একাধিকবার বারণ করা হয়েছিল হাউসের অন্দরে বিশঙ্খলা তৈরি না করার। তবে কুণাল তা শোনেননি। এরপরই অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর নির্দেশে মার্শাল ডেকে কুণালকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয় হাউস থেকে। একজন বিধায়ককে রীতিমতো ঠেলে ধাক্কা মেরে এইভাবে বের করা হয়েছে? সেই ঘটনা নিতান্তই মনে পড়ে না।

এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখছিলেন ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। তখন কুণাল ঘোষ উঠে এসে সোজা আখরুজ্জামানের সামনে এসে প্রশ্ন করেন, “বক্তা তালিকা থেকে আমার নাম কাটলেন কেন? নাম কাটলেন কেন” সেই সময় আখরুজ্জামান কোনো উত্তর না দিয়েই নিজের বক্তব্য পেশ করতে থাকেন। এদিকে, কুণালও অনড়। তিনিও একই প্রশ্ন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। হাউসের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলতা তৈরি হয়। এরপর অধ্যক্ষ বারেবারে কুণাল ঘোষকে সতর্ক করে বলেন, “আমি কিন্তু বলছি আপনি না বসলে বের করে দেব।”

তিনি একবার নয়, একাধিকবার সতর্ক করেন। কিন্তু কুণালও নিজের প্রশ্ন করতে থাকেন। সেই সময় মার্শাল ডেকে বের করে দেওয়া হয় বেলেঘাটার বিধায়ককে। প্রসঙ্গত, আজ সংসদে সাসপেন্ড করা হয়েছে মমতাপন্থী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। কুণাল ঘোষকে বের করে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রতিবাদ অনেক রকম হয়। এখানে পাঁচবার ও আটবারের বিধায়কও আছে। এমন অসভ্যতামি আগে দেখিনি। আমরাও বিরোধী দলে ছিলাম। আখরুজ্জামান দীর্ঘদিন বিধানসভার এমএলএ। আজ যেভাবে মমতাপন্থী তৃণমূলের সদস্য ওঁকে যেভাবে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এর তীব্র নিন্দা করছি।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









