অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ আজ ভরদুপুরবেলা ১টা ৪৯ মিনিট নাগাদ আক্রা-সন্তোষপুরের একাধিক বস্তি আগুনে ঢাকলো। চারদিক থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশী যে রেললাইনের ওভারহেডের তার পুড়ে গিয়ে ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে। অভিযোগ দীর্ঘক্ষণ আগুন লাগার পরও দমকল এসে উপস্থিত হয়নি।

৬ থেকে ৭টা বাচ্চাকে পাওয়া যাচ্ছে না। দুটো দমকলের গাড়ি এসেছে। একটায় জল আছে, আর একটায় জল নেই। আগুন দেখে একজন লাফ মেরেছিল পুকুরে। তার খোঁজ মিলছে না। আর একজনের গায়ে ট্রেনের তার পড়ে তাঁর চামড়া পুড়ে গেছে। এবার ভোট চাইতে আসুক…একটা প্রোটেকশন দিতে পারে না। কিছু নিতে পারিনি। শুধু জীবনটুকু নিয়ে চলে এসেছি।”

স্থানীয় এক ঝুপড়িবাসী বলেন, “বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।” দমকলের ভূমিকায় বিস্তর ক্ষোভ সাধারণ মানুষের। অভিযোগ, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দমকলের জল শেষ হয়ে যায়। এলাকার মানুষ বালতি করে জল দেয়। প্রচুর ঝুপড়ি পুড়ে একদম ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কয়েকজন শিশুর খোঁজ মিলছে না। মানুষজন বুঝতে পারছেন না, বাচ্চারা কোথায় গিয়েছে। কারণ গোটা জায়গা ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে। তমোনাথ ভৌমিক বলেন, “নির্বাচন এলেই বারোমাস তৃণমূলের তরফে আগুন ধরানো হয়। মানুষকে বিপদে ফেলা হয়। এই বস্তিতে আগুনে পুড়ে আগেও মানুষ মারা গেছে। এটা পুরো চক্রান্ত। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা নির্বাচন এলেই এমন হয়।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
মহেশতলার সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঘটনা যখন ঘটেছে, মানুষ ছোটাছুটি করছেন তখন প্রশাসনের কোনও দেখা নেই। আমরা এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।”
এদিকে আগুন লেগে সব পুড়ে শেষ ঝুপড়িবাসীর। হাউহাউ করে কাঁদছেন মহিলারা। কী করবেন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সকলে। এ দিকে, বস্তি অনেকটাই বড়। পুরো ঘিঞ্জি এলাকা। সেই কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়েছে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কেউ আটকে নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শুভাশিস দাস বলেন, “আমরা এখানে আছি। কীভাবে আগুন লেগেছে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। এখানে দমকলের দুটো ইঞ্জিন এসেছে। আরও গাড়ি আসছে। তবে বিশাল আগুন লেগেছে।” প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট-সার্কিট থেকে এই আগুন লেগেছে। এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে বজবজ-শিয়ালদহ ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। পুড়েছে ওভারহেট তার।











