নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রাজস্থানঃ রাজস্থানের আরাবল্লী পর্বতশ্রেণীর কোলে লুকিয়ে এক মায়াবী জগত। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত গ্রানাইট পাথর আর ঝোপঝাড় ঘেরা এই অঞ্চলের নাম জাওয়াই। এই অঞ্চলকে বলা হয় ভারতের ‘মাসাই মারা’। কেনিয়ার বিখ্যাত অভয়ারণ্যের মতোই এখানেও মানুষ ও বন্য জন্তুর এক অদ্ভুত সহাবস্থান চোখে পড়ে।

উদয়পুর ও যোধপুরের মাঝামাঝি অবস্থিত জাওয়াই। এটি কোনও সাধারণ জাতীয় উদ্যান নয়, প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা বনভূমি। এখানকার বেশির ভাগ পাহাড় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই তৈরি হয়েছে। এই এলাকার নির্দিষ্ট কোনও সীমানা বা প্রাচীর নেই। কয়েক দশক আগে পর্যন্ত এই জায়গা বাইরের দুনিয়ার কাছে অজানা ছিল। গত দশ বছরে এখানে বিলাসবহুল ইকো-ট্যুরিজম শুরু হওয়ায় জাওয়াইয়ের পরিচিতি বেড়েছে। এখন বহু মানুষ এখানে আসছেন।

জাওয়াইয়ের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার লেপার্ড। এখানকার পাহাড়ের গুহায় গুহায় তাদের বাস। এই অঞ্চলে লেপার্ড কোনও ঘেরা টোপে থাকে না, স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়ায়। অদ্ভুত বিষয় হলো, বন্যপ্রাণী ও জনবসতির মধ্যে কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। যুগ যুগ ধরে এখানে মানুষ ও পশু পাশাপাশি বাস করছে। কেনিয়ার মাসাই উপজাতির মতোই জাওয়াইয়ের স্থানীয় রাবারী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্য প্রাণীদের সম্পর্ক খুব গভীর। লেপার্ড মাঝে মাঝে স্থানীয়দের গবাদি পশু শিকার করলেও গ্রামবাসীরা পাল্টা আক্রমণ করেন না। তাঁরা মনে করে লেপার্ড ওই এলাকারই অংশ।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
সেলিব্রিটিদের কাছেও জাওয়াই এখন বেশ পছন্দের জায়গা। লেপার্ডের পাশাপাশি জাওয়াই ড্যামের সৌন্দর্যও দেখার মতো। বিশেষ করে সূর্যোদয়ের সময়ে এই অঞ্চল মায়াবী হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও গুহার ভিতরে অবস্থিত দেবগিরি মন্দিরও দেখার মতো। হেঁটে বা উটের পিঠে চড়ে এই দুর্গম মন্দিরগুলোতে পৌঁছনো যায় সহজেই।

জাওয়াই ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময়ে আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকে। ভারতের অন্যান্য জঙ্গলের মতো বর্ষাকালে জাওয়াই বন্ধ হয়ে যায় না। ফলে সারা বছরই রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকরা এখানে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here










