ব্যুরো নিউজঃ আন্টার্কটিকাঃ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো হিমশৈল ‘A23a’ ধ্বংসের মুখে। গত চল্লিশ বছর ধরে এই হিমশৈল আন্টার্কটিকার সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু এই দানবীয় বরফখণ্ড ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে সাগরে মিশে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, “এই হিমশৈল গলে যাওয়ায় আন্টার্কটিকা সহ দক্ষিণ মহাসাগরের বাস্তুতন্ত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।”

১৯৮৬ সালে ‘A23a’ হিমশৈলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ওই সময় এটি আন্টার্কটিকার মূল বরফের স্তর থেকে ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন এর আয়তন প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার বর্গ কিলোমিটার। যা নিউইয়র্ক শহরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড়ো। দীর্ঘ সময় পর ২০২০ সালে বিশাল এই হিমশৈলের তলদেশ অবশেষে সমুদ্র থেকে আলগা হতে শুরু করে। পরে সমুদ্রের স্রোত ও বাতাসের ধাক্কায় এটি উত্তর দিকে ভাসতে থাকে। বিজ্ঞানীরা একে ‘আইসবার্গ অ্যালি’ বা হিমশৈল চলাচলের পথ দিয়ে যেতে দেখেন। এখন এটি যত বেশী উষ্ণ জলের দিকে যাচ্ছে, ততই দ্রুত গলতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, এই হিমশৈল তার মোট আয়তনের প্রায় আশি শতাংশই হারিয়ে ফেলেছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে এর গায়ে গাঢ় নীল রঙের গর্ত তৈরী হয়েছে। যা আসলে তাপমাত্রা বাড়ার সংকেত। দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আবার কয়েক টুকরো হয়ে যায়। আর এখন বড়ো বড়ো খণ্ডগুলো আলাদা হয়ে সমুদ্রের বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাঙন সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
যখন এই বিশাল বরফখণ্ডগুলো গলে যায়, তখন সমুদ্রের জলে প্রচুর খনিজ মিশে যায়। যেগুলি সামুদ্রিক ছোটো উদ্ভিদের জন্য ভালো খাবার হতে পারে। তবে বিপদও আছে। যদি বড়ো বরফের টুকরোগুলো দ্বীপের কাছে আটকে যায়, তাহলে পেঙ্গুইন বা সিলদের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ তাদের খাবার খুঁজতে অনেক দূরে যেতে হবে, যা জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরী করবে। এই হিমশৈল গলে যাওয়া আসলে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বড়ো প্রমাণ। সমুদ্রের জল গরম হয়ে যাওয়ার ফলে আন্টার্কটিকার বরফ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রের জলস্তর আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।










