অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ বিধানসভা থেকে মুকুল রায়ের মরদেহ কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে আনা হল। তাঁকে শেষবার দেখতে রাস্তায় জনজোয়ার উপচে পড়েছে। এছাড়া তৃণমূলের নেতা-কর্মী সহ সমর্থকেরা তো ছিলেনই। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মুকুল রায়ের শববাহী গাড়ির সঙ্গেই কাঁচরাপাড়ায় এসেছেন। ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে যেন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন মুকুল রায় কিডনি সহ একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে জর্জরিত থাকার পর বাইপাসের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবশেষে চিকিৎসা চলাকালীন গতকাল গভীর রাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২ বছর বয়সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোকজ্ঞাপন করে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লেখেন, “মুকুল রায়ের মৃত্যু বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগের অবসান। প্রবীণ এই নেতার বিপুল অভিজ্ঞতা ছিল।”

পাশাপাশি তৃণমূল তৈরীর অন্যতম কারিগর বলে অভিহিত করে লিখেছেন, “সংগঠন তৈরী ও বিস্তারের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। জনজীবনে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় থাকবে।” অন্যদিকে, মুকুল রায়ের পরিবার, বন্ধু এবং অনুগামীদেরও সমবেদনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মুকুল রায় কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন। তৃণমূল দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন। এক সময় রাজ্যসভার সদস্য পদের দায়িত্ব সামলেছেন। জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পর রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে দলবদলের পরে গত ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ফের তৃণমূলে যোগ দিলেও বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেননি। যার কারণে খাতায় কলমে বিজেপির বিধায়ক হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। তবে বিধায়কপদ খারিজের মামলা আদালত অবধি গড়িয়েছিল। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট খারিজের রায় দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। যদিও পরে মুকুল রায় রাজনীতির ময়দান থেকেও অনেক দূরে ছিলেন।










