নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হুগলীঃ জনশ্রুতি আছে, ‘প্রায় ৭০০ বছর আগে হুগলীর ত্রিবেণীতে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীর সঙ্গমে কুম্ভ বসতো।’ গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তি শেষে ফেরার পথে মাঘী পূর্ণিমায় সাধু সন্ন্যাসীরা পায়ে হেঁটে ত্রিবেণী সঙ্গমে মিলিত হতেন। সেখানে একদিনের কুম্ভ হতো, যাকে অনুকুম্ভ বলা হয়। পঞ্চম বর্ষের সেই কুম্ভমেলা বুধবার থেকে শুক্রবার অবধি চলবে।

ত্রিবেণীতে এই তিন দিন বহু মানুষের সমাগম হয়। এই মেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। বহু শতাব্দী ধরে ত্রিবেণীকে ‘দক্ষিণের প্রয়াগ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এই মেলার আয়োজন করা হয়। এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মেলা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী চট্টোপাধ্যায় গিয়েছিলেন।

ত্রিবেণী কুম্ভমেলা কমিটি সূত্রে খবর, গঙ্গাপারে রিফিউজি ক্যাম্পে সাধু আখড়ায় নাগা সাধুরা হাজির হয়েছেন। আসামের কামাক্ষ্যা থেকে শুরু করে কিন্নরের সাধুরাও এসেছেন। এই বছর সাধু আখড়ার আকর্ষণ কাচ বাবা। যিনি ছাই-ভস্ম মেখে, কাচের বোতল ভেঙে, তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকছেন। ওই বাবা জানান, “মাস চারেক আগে ভাঙা কাচের টুকরোর উপরে দাঁড়ানো অভ্যাস করেন। সেজন্য কাঁচের উপরে দাঁড়ালেও পায়ে কখনো ব্যথা হয় না। কেটে রক্তপাত হয় না।” সাধুর কথায়, “সবই আসলে মায়া।”










