নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বর্ধমানঃ বাবা বিজেপি করায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মারের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পূর্ব বর্ধমানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের খণ্ডঘোষ ব্লকের বেরুগ্রাম অঞ্চল সভাপতি সেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের বিরুদ্ধে। তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপি সমর্থক দীপক অধিকারীর বাবার দোকানে গিয়ে অশান্তি পাকায় বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দীপকের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধে লকাইয়ের দলবলের। এরইমধ্যে তাঁর ছেলের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, প্রথমে তৃণমূল বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। পরে বিজেপির চাপেই শেষ পর্যন্ত অভিযোগ নেয়।

খণ্ডঘোষের বোঁয়াইচণ্ডী মায়ের মন্দির সংলগ্ন একটি দোকানে রয়েছে দীপকের। সেখানেই ঘটেছে এই ঘটনা। অভিযোগ, বিজেপি নেতার ছেলে আস্তিক অধিকারীকে বেশ কয়েকজন ঘিরে ধরে চরম হেনস্থা করে। এমনকি ঠেলে জলেও ফেলে দেওয়া হয়। গোটা দৃশ্যই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটে ধরা পড়েছে। সেই ফুটেজ সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোরের তীব্রতা আরও বাড়ে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলছেন, শুধু হেনস্থাই নয়, দীপকের দোকানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আহত উদ্ধা করে তাঁরাই খণ্ডঘোষ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। তারপর সোজা থানায়। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়বাবু আঙুল তুলছেন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও। বলছেন, “পুলিশ তো সব তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। পুলিশ-প্রশাসনের প্রশ্রয়ে গোটা এলাকাই বর্তমানে দুষ্কৃতীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।” অন্যদিকে, জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম সংক্ষেপে শুধু বলেন, “ঘটনার বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তবে শুনেছি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সুতরাং পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









