কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রবিবার পেশ করেছেন আগামী অর্থবর্ষের বাজেট। সংস্কার, কর্মসংস্থান, দক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। কৃষক, ছাত্রছাত্রী, এমএসএমই, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী— সবার দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে এমন একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে।
এই বাজেটে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক জীবিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫০০টি রিজার্ভয়ার ও অমৃত সরোবর উন্নয়নের মাধ্যমে মৎস্যচাষে জোর দেওয়া হবে। পশুপালন খাতে উদ্যোগ বাড়িয়ে গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। নারকেল চাষ সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্পে পুরনো গাছ বদলে উন্নত জাতের গাছ লাগানো হবে। এতে প্রায় ৩ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন। কাজু ও কোকো চাষেও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। রাজ্যগুলির সঙ্গে মিলিয়ে চন্দন কাঠের ইকোসিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
কৃষকদের জন্য চালু হচ্ছে ‘ভারত-বিস্তার’। এটি একটি AI ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে কৃষকরা ফসল, ঝুঁকি ও উৎপাদন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। গ্রামীণ মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি হবে SHE-Marts, যাতে মহিলারা ব্যবসার দিকে এগোতে পারেন। পূর্ব ভারতে একটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন তৈরি হবে। বড় শিল্প করিডরের পাশে পাঁচটি ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ গড়ে উঠবে। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের জন্য প্রতি জেলায় একটি করে গার্লস হস্টেল তৈরি করা হবে। গবেষণার জন্য চারটি নতুন টেলিস্কোপ কেন্দ্র তৈরি হবে। স্কিল, চাকরি ও AI প্রযুক্তিকে মিলিয়ে কাজ করবে নতুন শিক্ষা-নিয়োগ কমিটি।
Sponsored Ads
Display Your Ads Hereআগামী পাঁচ বছরে ১ লক্ষ অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনাল এবং ১.৫ লক্ষ কেয়ারগিভার তৈরি হবে। তিনটি নতুন আয়ুষ প্রতিষ্ঠান হবে। চালু হবে NIMHANS-2। জেলা হাসপাতালে ৫০% ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাঁচটি মেডিক্যাল হাব গড়ে তুলে মেডিক্যাল ট্যুরিজ়মে জোর দেওয়া হবে। MSME-কে অর্থনীতির মেরুদণ্ড ধরে তিন দিক থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে— ইকুইটি, লিকুইডিটি ও পেশাদারি সাহায্য। ১০ হাজার কোটি টাকার SME গ্রোথ ফান্ড চালু হবে। স্বনির্ভর ভারত ফান্ডে অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা যোগ হবে। TReDS-এর মাধ্যমে ৭ লক্ষ কোটি টাকা লিকুইডিটি সহজ হবে। Tier-II ও Tier-III শহরে ‘কর্পোরেট মিত্র’ তৈরি হবে।
বিকশিত ভারত-এর জন্য ব্যাঙ্কিং রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে। ১,০০০ কোটি টাকার বেশি মিউনিসিপ্যাল বন্ডে ১০০ কোটি টাকার ইনসেনটিভ মিলবে। পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট সীমাও বাড়ানো হয়েছে। IT, KPO ও সফটওয়্যার পরিষেবা এক ছাতার তলায় আনা হচ্ছে। সেফ হারবার মার্জিন হবে ১৫.৫%। এর সীমা ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে, ফলে মাঝারি IT কোম্পানির সুবিধা হবে। হায়দরাবাদ-চেন্নাই, মুম্বই-পুণে, পুণে-হায়দরাবাদ, দিল্লি-বারাণসী, বারাণসী-শিলিগুড়ি সহ ৭টি করিডর হবে। এতে যাতায়াত সময় কমবে ও আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Hereপাঁচটি মেডিক্যাল হাব তৈরি হবে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি গড়ে উঠবে। ১৫টি ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন হবে। উত্তর-পূর্বে বৌদ্ধ সার্কিট তৈরি হবে। অন্যদিকে, দিব্যাঙ্গ কৌশল যোজনা চালু হচ্ছে। ALIMCO ও PM দিব্যাক্ষ কেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়ক যন্ত্র তৈরি হবে। খেলো ইন্ডিয়া মিশনের মাধ্যমে প্রতিভা খোঁজা, কোচিং ও আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি হবে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









