নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আলিপুরদুয়ারঃ গতকাল জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন করলা ভ্যালি চা বাগানে এক হস্তিশাবক দলছুট হয়ে জঙ্গল ছেড়ে চা বাগানে ঢুকে বাগানেরই পরিত্যক্ত কুয়োতে পড়ে গেল। আর তাকে উদ্ধার করতে বন দপ্তর একেবারে নাজেহাল। পরে আর্থমুভার এনে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় শাবকটিকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু উদ্ধারের পরে শাবকটি চা বাগানেই দাপিয়ে বেড়াতে থাকে। এতে বাগানের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্রের খবর, এদিন তিনটি হাতির একটি দল চা বাগানে ঢুকে পড়ে। তবে রাতেরবেলা পরিস্থিতি জটিল হয়। দলের মধ্যে থাকা ওই হস্তিশাবক বনকর্মীদের তাড়া খেয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার একুশ নম্বর ওয়ার্ডে অনিন্দ্যচন্দ্র কলেজের পিছনের সোশ্যাল ফরেস্টে ঢুকে পড়ে। এর জেরে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় খবর পেয়ে সেখানে যান। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কলেজ সংলগ্ন শিরিষতলা বাজার বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাতেরবেলা অবধি হাতিটি সেখানেই ছিল।

এদিন সকালবেলা চা বাগানে ৪৭ নম্বর সেকশনে বাগান শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে সেখানে একটি পরিত্যক্ত কুয়োতে শাবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। বাগান ম্যানেজারের কাছে খবর পৌঁছালে বাগান ইনচার্জ রাজু সাহানি সেখানে যান। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগানের বিভিন্ন শ্রমিক লাইনের বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেন। জলপাইগুড়ির পরিবেশপ্রেমী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীকে খবর দেওয়া হলে তিনি বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগ ও জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
বিশ্বজিৎ দত্ত জানান, ”শাবকটি যে কুয়োতে পড়েছিল, সেখান থেকে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে তুলে আনা সম্ভব ছিল না। তাই বন দপ্তর আর্থমুভার নিয়ে এসে ওই কুয়োর মুখে কেটে বড়ো করে প্রায় তিন ঘণ্টা পরে শাবকটিকে উদ্ধার করে।” কিন্তু এই তিনটি হাতি জঙ্গল থেকে পনেরো কিলোমিটার পেরিয়ে বাগানে আসলো কিভাবে? তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাগানের ইনচার্জ রাজু বলেন, “এখনো অবধি হাতিগুলিকে বাগান থেকে বের করা যায়নি। এদের জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে না পারলে বাগানের কাজ করা সম্ভব হবে না। শ্রমিকরা আতঙ্কে থাকবেন।” বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের এডিএফও দীপেন তামাং বলেছেন, “একাধিক বন্যপ্রাণ স্কোয়াডের কর্মীদের ডাকা হয়েছে। তিনটি হাতিকে এক জায়গায় নিয়ে এসে রাতেরবেলার মধ্যেই জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।”










