মিনাক্ষী দাসঃ উত্তর চব্বিশ পরগণাঃ গতকাল রাতেরবেলা উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসাতের নেতাজি পল্লী এলাকার জাতীয় সড়কে গৃহপালিত পশুর মৃতদেহ রেখে অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ যানচলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের হাত থেকে দুই পাচারকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে রীতিমতো গণপিটুনি দেয়। আর পুলিশের গাড়ি আটকেও বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকা থেকে গোরু নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে।” দুই পাচারকারীর নাম নাজমুল হোসেন ও নিজামুদ্দিন।

জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যেবেলা এলাকাবাসীদের একাংশ নিখোঁজ গোরুদের খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজি করতে করতে বারাসাত কালীবাড়ি এলাকার একটি মাঠে পৌঁছে গিয়ে দেখেন বেশ কয়েকজন যুবক মিলে একটি গোরুর মৃতদেহ গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। আটকাতে গেলে বেশ কয়েকজন গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। তবে নাজমুল এবং নিজামুদ্দিন ধরা পড়তেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করলে তারা বলে তিনশো টাকার বিনিময়ে এই মরা গরু নিয়ে যেতে এসেছিলেন।

এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা নাজমুল ও নিজামুদ্দিনকে গণপ্রহার শুরু করেন। দত্তপুকুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাজমুল এবং নিজামুদ্দিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এলাকাবাসীদের দাবী, “এটি একটি গ্যাং, যারা বিষ খাইয়ে গৃহপালিত গোরুগুলি মেরে ফেলে পাচার করছে। এদের নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এরপরই পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে এনে অভিযুক্তদের মারধর করা হয়। আর নাজমুল ও নিজামুদ্দিনের শাস্তি এবং বিচারের দাবীতে মৃত গৃহপালিত গোরুর মরদেহ রাস্তায় রেখেই টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চালায়। ঘন্টাখানেক অবরোধের পর বারাসাতের নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়। তারপর পুলিশের আশ্বাসে প্রায় এক ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। আর গোরুর মৃতদেহ বারাসাত পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।










