নিজস্ব সংবাদদাতাঃ তামিলনাড়ুঃ আছড়ে পড়ার আগেই শ্রীলঙ্কার উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় দিটওয়া। মৃত্যু হয়েছে ৫০-এরও বেশি মানুষের। এ বার ঘূর্ণিঝড় ভারতের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। রবিবার ভোরে তা তামিলনাড়ু-পুদুচেরী-দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের কাছে আছড়ে পড়তে পারে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে সতর্কতা জারি করে দিয়েছে মৌসম ভবন। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ঝড়বৃষ্টিও। তামিলনাড়ুর কয়েকটি জেলায় লাল সতর্কতা রয়েছে।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝ়ড় দিটওয়া শ্রীলঙ্কার উপকূল ধরে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। গত ছ’ঘণ্টায় তার গতি কিছুটা বেড়েছে। ঘণ্টায় আট কিলোমিটার বেগে ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়। এই মুহূর্তে তার অবস্থান দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর, শ্রীলঙ্কার জাফনা থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব, ভারতের কারইকাল থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব, পুদুচেরী থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এবং চেন্নাই থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ। ৩০ নভেম্বর ভোরের দিকে এই ঘূর্ণিঝড় দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তামিলনাড়ু-পুদুচেরী-দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় পৌঁছোবে। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করার পর ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আরও খানিকটা বাড়তে পারে।

মৌসম ভবনের আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত তামিলনাড়ু ও পুদুচেরীর উপকূলে ঝড়ের গতি হতে পারে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৯০ কিলোমিটারেও। এর ফলে প্রবল বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ভারতের উপকূলে। নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে। ইতিমধ্যে তামিলনাড়ু, পুদুচেরী এবং অন্ধ্রপ্রদেশে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ১ ডিসেম্বর থেকে ঝ়ড়বৃষ্টি কিছুটা কমবে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের কোনও প্রভাব সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়ছে না। তবে তাপমাত্রা বেশ খানিকটা বেড়েছে। কিছু দিন আগে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.২ ডিগ্রি কম। শুক্রবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী চার দিন উত্তর বা দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রায় খুব একটা হেরফের হবে না। সর্বত্র শুকনো আবহাওয়া থাকবে। তবে তার পর আবার দুই থেকে তিন ডিগ্রি নামতে পারে পারদ।










