নিজস্ব সংবাদদাতাঃ হাওড়াঃ হাওড়ার চেঙ্গাইলের চটকলে ‘সাময়িক কর্মবিরতি’। কর্তৃপক্ষ ‘সাময়িক কর্মবিরতি’ বললেও, শ্রমিকরা খুব একটা আর আশার আলো দেখছেন না। তাঁরা ভয় পাচ্ছেন, আদৌ কি আবার জুটমিলের গেট খুলবে? চেঙ্গাইলের প্রেমচন্দ জুটমিলে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আজ, মঙ্গলবার কাজে গিয়ে দেখেন, মিলের গেটে নোটিস ঝুলছে। কর্মহারা হয়ে পড়েন প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের অভিযোগ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করে মিল বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ নোটিসে মিল বন্ধের কারণ উল্লেখ করেছেন।

কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে নোটিসে তাঁরা জানিয়েছেন— ২০ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাময়িক ভাবে কাজ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে মিলের শ্রমিকরা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ নীতির আওতায় পড়বেন। শুধু তাই নয়, ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে, পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে।

মিল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচা পাটের সঙ্কট, নগদ টাকায় পাট কেনা, উন্নত মানের পাট পাওয়া সহজলভ্য না হওয়া-সহ একাধিক কারণে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে মিলে যে তাঁত চালু আছে, সেই সব তাঁতের উৎপাদন ক্ষমতা খুব কম এবং অলাভজনক। এর ফলে মিলে প্রতিদিন প্রচুর লোকসান হচ্ছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Hereমিল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তার পরেও তাঁরা মিল চালাচ্ছেন। কিন্তু শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলি থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মিল সাময়িক বন্ধ করতে হয়েছে। যদিও মিলের ইউনিয়ন টিইউসিসির (Trade Union Co-ordination Centre) সম্পাদক হাবিবুর রহমানের দাবি, পাটের জোগান নেই, এটা দেখানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের উপরে চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করেই মিল বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের এ হেন সিদ্ধান্তে চার হাজার শ্রমিক পরিবারের পাশাপাশি এলাকার ব্যবসায়ীরাও চরম সমস্যায় পড়বেন।









