নিজস্ব সংবাদদাতাঃ উত্তর দিনাজপুরঃ চুরির অপবাদে এক নাবালককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। সম্প্রতি এই মারধরের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। দুই নাবালককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত উত্তর দিনাজপুর ডালখোলার বিজেপি নেতা অর্জুন সরকার। দুই নাবালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের নাবালকদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ডালখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অর্জুন সরকার ও নকুল সরকার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডালখোলার বিজেপির যুব মোর্চার নেতা অর্জুন সরকারের মোটর বাইকের শোরুম রয়েছে। অভিযোগ, সেই দোকানে এর আগে একাধিক বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির ঘটনায় যুক্ত হওয়ার সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত নেতা ও তাঁর দলবল ৪ জন নাবালককে ধরে নিয়ে শিকারপুর এলাকায় তার গোডাউনে নিয়ে আসে। সেখানেই ওই নাবালকদের কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

এক নাবালকের বাবা মানিক রায়ের অভিযোগ, তঁর ছেলে-সহ আরও ৪ জনকে ওই নেতার লোকজন রাস্তা থেকে ক্যাটারিংয়ে কাজ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তুলে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রচণ্ড মারধর করে। স্থানীয় বাসিন্দারা কোনওভাবে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় ও বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়। তাঁর ছেলের নামে চুরির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ওই নেতা অত্যাচার চালিয়েছেন বলে নাবালকের বাবার অভিযোগ। বর্তমানে সে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। তার বুকে,পেটে, চোখে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। বাবা জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
অন্য দিকে অভিযুক্ত অর্জুন সরকার বলেন, ‘চুরির প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমি ওদের মেরে ভুল করেছি। কিছুদিন আগে আমি করণদিঘির বিধায়কের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলাম। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলো।’ বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাদানুবাদও। জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, ‘আইন নিজের হাতে নেওয়ার অধিকার কারও হাতে নেই। ওই নাবালকদের অভিযোগ থাকলেও থানায় জানানো উচিত ছিল। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।’ বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, ‘না জেনে কিছু বলব না।’










