নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বর্ধমানঃ নতুন বছরের প্রথম দিনই পথ দুর্ঘটনায় শেষ হলো মা-বাবা-ছেলে। ছেলে পুনেতে কাজ করেন। তাঁকে ফ্লাইটে তুলে দেওয়ার জন্য বেনাচিতি দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় যাচ্ছিল পরিবার। থেকে কলকাতা আসছিল ওই পরিবার। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে জোতরাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁদের চার চাকার গাড়িটি সামনে থাকা একটি তেলের ট্যাঙ্কারে ধাক্কা মারে। এর পরেই ট্যাঙ্কারের পিছনে থাকা লোহার একটি অংশে গাড়িটি আটকে যায়। সেই অবস্থাতেই অনেকটা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় ট্যাঙ্কারটি। মৃতদের নাম শেখ মহম্মদ মুর্শেদ (৫৫), রেজিনা খাতুন (৫১), শেখ শাহনেওয়াজ (২৭)। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তাঁরা। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন গাড়ির চালকও।

মুর্শেদ দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে চাকরি করেন। ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগে রয়েছেন। ছেলে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এ দিন ছেলেকে এয়ারপোর্টে ছাড়তে যাচ্ছিলেন। এতটা দূরে যাবেন বলে, এজেন্সি থেকে চালক নেন। চালকের নাম সাহেব মুন্সি। দুর্গাপুরের গ্যামন ব্রিজ এলাকায় তাঁর বাড়ি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শক্তিগড় থানার পুলিশ। বাড়িতে রয়েছেন মুর্শেদের বৃদ্ধ মা নাসিমা বেগম। তিনি এখনও জানেন না তাঁর পরিবারের এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। খবর পেয়েই শক্তিগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটা গ্যাসের গাড়ি যাচ্ছিল, গ্যাসের গাড়ির পিছনে গিয়ে ছোট চার চাকার গাড়িটি ধাক্কা মারে। এর পরেই গ্যাসের গাড়ির পিছনে থাকা একটা লোহার অংশে চার চাকা গাড়ি আটকে যায়। সেই অবস্থাতেই গ্যাসের গাড়ির চালক এগিয়ে যান। চিৎকার করেও গাড়িটি থামানো যাচ্ছিল না। এর পরে এলাকার লোকজন গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে ব্রেক কষেন চালক। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ তাঁদের তড়িঘড়ি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তিন জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাড়ির চালক চিকিৎসাধীন।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









