নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ঝাড়গ্রামঃ ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেড়া থানা এলাকায় রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মহিলা। অভিযোগ, একটি গাড়িতে থাকা দুই যুবক জোরপূর্বক মহিলাকে তুলে নিয়ে যায় জঙ্গলে। মহিলাকে ধর্ষণের পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। শরীরে আগুন নিয়েই জঙ্গল থেকে পালিয়ে কোনওক্রমে রাস্তায় ওঠেন তিনি। সিভিক ভলান্টিয়ারদের নজরে আসতেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাণে বাঁচেন বছর ৫১-র ওই প্রৌঢ়া। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। বর্তমানে ওই মহিলা ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতিতা জানিয়েছেন, রবিবার বেলিয়াবেড়া থানা এলাকার একটি বাজার থেকে ন’নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময়ে গ্রামের এক যুবক ও তার সঙ্গে থাকা আরও একজন ওই মহিলাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে স্থানীয় জঙ্গলে নিয়ে যায়। নির্যাতিতা বলেন, ‘নেশাগ্রস্ত করে দু’জনে মিলে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। যখন আমার শরীর আগুনে পুড়ে জ্বলতে শুরু করে তখন আমার জ্ঞান ফেরে। শাড়ি পরে থাকায় আগুন গোটা শরীরে ছড়িয়ে যায়। আগুন নিয়েই জঙ্গল থেকে ছুটে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় উঠি। সেখান থেকে সিভিক ভলান্টিয়াররা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

সিভিক ভলান্টিয়াররা স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনায় তপসিয়া গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক রিমিল সরেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ, খুনের চেষ্টা এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এই তিনটি মামলায় মামলার রুজু করে বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশ। বেলিয়াবেড়া থানা ওই এলাকার এক যুবককে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শরীরের ডান দিকের হাত থেকে পা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার তৎক্ষনাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেফাজতে নিয়ে ঘটনা তদন্ত রয়েছে।’
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









