চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির রেশ পড়ল নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকে। ভাঙচুর করা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক। RSS-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপির বিরুদ্ধে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলক ভাঙচুরের অভিযোগ। যদিও, অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি।

এদিন বাম ও এবিভিপির ছাত্রদের বিক্ষোভে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের বাইরে জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ABVP ছাত্ররা। গেটে তালা ও প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকার দরুণ গেট বেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। এদিকে ভিতরে তখন AIDSO-র ছাত্ররাও লাল পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। গেটের ভিতর ও বাইরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, সেই সময় গেট ধরে প্রবল ধাক্কাধাক্কি করেন ABVP সমর্থকরা। অভিযোগ, তখন ফলকে লাথিও মারা হয়। এরপর সেই ফলক ভেঙে যায়। তারপর সেই শতদল ফলক ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ABVP সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, “খুব লজ্জা লাগছে। এদের তো শিক্ষার সঙ্গে কোনও যোগ নেই। পা দিয়ে ভেঙে ফেলল। এটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য।” কবি অংশুমান কর বলেন, “আসলে যাঁরা এই কাজ করলেন মুখে যাই বলুক ওদের ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে একদমই কোনও ধ্যান-ধারনা নেই। ভক্তি-শ্রদ্ধা কণা মাত্র নেই। আসলে কয়েকটি চেনা মুখ নিয়ে ওরা সেলিব্রেট করেন। এর বাইরেও তো মনিষীরা আছেন। ভাবা যায় নন্দনাল বসুর তৈরি করা এমব্লেম ভেঙে দিল? যাঁরা ভেঙে কতজন জানেন নন্দলাল বসু তৈরি করেছেন এটা? আমি কড়া সমালোচনা করছি।”
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার বলেন, “অত্যন্ত অনুচিত কাজ হয়েছে। বাংলায় বিগত কুড়ি বছর ধরে এমন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এর প্রভাব সমস্ত স্তরে পড়েছে। অপসংস্কৃতির প্রভাব পড়ছে।” একজন ABVP সমর্থক বলেন, “ওরা আমাদের পতাকা ছিড়েছে। আসল কথা হল ভারত বিরোধী কাজ, ক্যাম্পাস দখল নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে যখন গেলাম তখন আমাদের মারা হল।”










