অনুপ চট্টোপাধ্যায়ঃ কলকাতাঃ বামেদের আমলে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তৃণমূল জমানাতেও তাঁকে ফেরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে, তাঁর কলমে ছিল ফিরে আসার বার্তা। নিজের প্রিয় শহর ছাড়ার আগে লিখেছিলেন যদি মানুষ হয়ে না পারি, পাখি হয়েও ফিরব একদিন’। তিনি ফিরলেন। আর এদিন লিখলেন, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তসলিমা লিখেছিলেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’

রাজ্যে পালাবদলের পর তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বিজেপি সরকার। গত ১৭ মার্চ সংসদে জিরো আওয়ারে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “তসলিমা কলকাতাকে ভালবাসেন। তিনি কলকাতায় থাকতে চান, বাংলায় কথা বলতে চান, বাংলায় কবিতা লিখতে চান।” উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে তাঁকে ফেরানোর দাবি করেন। এরপরই জানা যায়, ৩১ জুলাই কলকাতায় পা রাখবেন তসলিমা। সেক্যুলার মিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নামের দু’টি সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় এসেছেন লেখিকা। ওই দুই সংগঠনের নেতৃত্ব ওসমান মল্লিক এবং মোহিত রায় ছাড়াও এন সি পি দলের পক্ষে শিউলি সাহা এবং তসলিমার অনুরাগীদের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

লেখিকার জন্য বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমাকে সংবর্ধনা জানানোর অনুষ্ঠান রয়েছে। আগামী রবিবার বাংলা অকাদেমিতে একটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা। নিজের দেশ বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ঢুকতে পারেননি তসলিমা। ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরে বেশ কয়েক বছর কলকাতায় ছিলেন। কিন্তু ১৮ বছর আগে কলকাতায় তসলিমার বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়ানোয় তাঁকে কলকাতা ছাড়তে ‘বাধ্য’ করা হয়েছিল। তার পরে বেশ কয়েক বছর ভারতে থাকার অনুমতিও তিনি পাননি। পরে আবার ভারতে ফেরেন থাকার অনুমতিও পান। কিন্তু কলকাতা তাঁর জন্য ‘দুর্গম’ই থেকে গিয়েছিল।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর দাবিতে সংসদে সরব হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার সেই সময়ে জানিয়েছিল, লেখিকায় কলকাতায় ফেরায় কোনও বাধা নেই। তা নিয়ে পরে শমীক বলেছিলেন, ‘তসলিমা একজন বাঙালি লেখিকা। তিনি বাংলায় লেখেন। তাঁর পাঠকেরা বাঙালি। তাঁকে বছরের পর বছর বাংলা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা হবে কেন? যাঁদের জন্য লেখেন, তাঁদের মাঝে কেন বাঁচতে পারবেন না? আমি এই প্রশ্নই রাজ্যসভায় তুলেছিলাম। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ। তারা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল, তসলিমার কলকাতায় ফেরার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।’ এ বার রাজ্যে পালাবদলের পরে তসলিমাকে কলকাতায় আনার ব্যবস্থা করল বিজেপি সরকার।










