"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

‘আমাদের সরকার মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, ১২ বছর পূর্তিতে জানালেন প্রধানমন্ত্রী

Share

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নয়া দিল্লিঃ দেশের ইতিহাসে সবথেকে বেশি দিন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে থাকার রেকর্ড করেছেন নরেন্দ্র মোদী। বুধবার এই উপলক্ষ্যে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে NDA শাসিত সকল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেন নরেন্দ্র মোদী। তার পরে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি জানালেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে ‘মা ভারতী’-র সেবা করার সৌভাগ্য কেবল পরমেশ্বরের বিশেষ কৃপাতেই সম্ভব হয়েছে। কংগ্রেসের গ্রোথ রেট আর NDA-র গ্রোথ রেটে তফাৎ আছে বলে দাবি করে তাঁর সরকারের সাফল্য ও ভবিষ্যতের রূপরেখাও তুলে ধরলেন মোদী।

ভারতের সবথেকে বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রসঙ্গে মোদী বললেন, এই সাফল্য তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়। এই সাফল্যে NDA-র সকল দলের সমান অবদান আছে। সকল সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এই উপলক্ষে NDA পরিবারের সদস্যরা একটি প্রস্তাবও পেশ করেছেন বলে জানা তিনি। মোদী বলেন, ‘আমার কাছে, জনগণই হলেন ঈশ্বরের মূর্ত প্রতীক। তাই আমি সর্বদা এই সেবাকে এক আধ্যাত্মিক সাধনা হিসেবে গণ্য করেছি।’

মোদী আরও জানান, ২০১৪ সালে NDA সরকার আসার আগে বেশ কয়েক দশক ধরে ভারতের রাজনীতি ছিল অস্থিরতায় ভরা। এর ফলে দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। NDA ভারতকে একটা স্থিতিশীল সরকার উপহার দিয়েছে। মোদী বলেন, ‘এখন মানুষ একটি স্থিতিশীল সরকারের কার্যকারিতা দেখছে এবং এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার প্রশংসা করছে। আজ আমি দেশের মহান জনগণের প্রতি মাথা নত করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালেই তিনি বলেছিলেন, দেশে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। গত ১২ বছরে তাঁর সরকার দেশবাসীর সেই সব আশা-আকাঙ্খা পূরণ করার জন্য নিরন্তর কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ১২ বছরের শাসনকালের পরে তিনি সন্তুষ্টি বোধ করছেন যে, NDA পরিবার হিসেবে তাঁরা ধারাবাহিক ভাবে দেশের মানুষের আস্থার মর্যাদা দিতে পেরেছেন। কংগ্রেসের বিশ্বাসঘাতকতার পর দেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। আজ আমি সন্তুষ্ট ও গর্বিত যে, এনডিএ পরিবার হিসেবে আমরা ধারাবাহিকভাবে দেশের মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছি।

মোদী আরও দাবি করেন, ২৫ কোটি মানুষ দরিদ্র স্তর থেকে উপরে উঠে এসেছে। দেশে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি হয়েছে। মোদী দাবি করেন, তাঁর সরকারের নীতি, নির্ণয়, দিশা যে যথার্থ ছিল, এটা তারই প্রমাণ। আজ দেশের সকল গরীব মানুষ মনে করে, একদিন তাদের সংঘর্ষও শেষ হবে। তাদের আশাও পূর্ণ হবে। দেশে যে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি হয়েছে, তাদের আর পিছিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। এর জন্য তাঁর সরকার দিন-রাত এক করে কাজ করবে বলে জানান মোদী।


তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরে আরও একটা বড় ঘটনা ঘটেছে: ‘কংগ্রেসের কুচক্র থেকে মুক্ত হয়েছে ভারত’। মোদী দাবি করেন, কংগ্রেস ভারতবাসীকে অসহায়ত্ব, চরম দারিদ্র্য এবং হীনম্মন্যতার অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছিল। তারা দেশকে বুঝিয়েছিল, ভারতে উন্নয়ন শামুকের গতিতেই হয়, দ্রুত প্রবৃদ্ধি অসম্ভব। মোদী অভিযোগ করেন, চতুরতার সঙ্গে এই ধীরগতির প্রবৃদ্ধিকে কংগ্রেস ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’ বলেছিল। তাদের কাজের ধরন, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ব্যর্থতার দায় বা কলঙ্ক চাপিয়ে দিয়েছিল দেশের বিশাল হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপরে। মোদী বলেন, ‘বাস্তবে এই পরিস্থিতির নাম হওয়া উচিত ছিল কংগ্রেস গ্রোথ রেট’।

তিনি দাবি করেন, ‘কংগ্রেস গ্রোথ রেট’-এ সুশাসন, সঠিক নীতি, সৎ উদ্দেশ্য এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপের অভাব ছিল। মোদী জানান, এর পরে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়ে কী ভাবে দ্রুত বিকাশ হয় তার একটা ঝলক দেখা গিয়েছিল। তবে তার পরে সেই উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে কংগ্রেস দেশকে একের পর এক কেলেঙ্কারির দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদী বলেন, ‘২০১৪ সালে NDA সরকার গঠিত হওয়ার পরে দেশের ভাগ্যের মোড় ফের ঘুরে যায়। উদ্দেশ্য, নীতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সমন্বয় আসায়, দেশ উন্নয়নের প্রকৃত গতি প্রত্যক্ষ করে।


গত ১২ বছরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, বিশ্বের বড় বড় দেশগুলির অর্থনীতি যখন সঙ্কটাপন্ন, তখন ভারত ২০২৫-২৬ সালে ৭.৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। মোদী বলেন, ‘এই সাফল্য কোনও সাধারণ বিষয় নয়… আজ আমরা বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও দাবি করেন, আজকের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের মধ্যেই নিহিত রয়েছে উন্নত ভারতের বীজ। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের গর্ভেই গড়ে উঠছে উন্নত ভারত। মধ্যবিত্ত শ্রেণিই দেশের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের ভিত্তি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৪ সালের আগে মধ্যবিত্ত শ্রেণি আইনি জটিলতার সবচেয়ে বড় শিকার ছিল। কর ব্যবস্থার জটিলতা, আয়ের সীমিত উৎস এবং করের অত্যধিক বোঝা— এসবই ছিল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষা বুঝেছি, আর তাই আজ ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত।’

জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, চিপ, ব্যাটারি স্টোরেজ, মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন, ডেটা সেন্টার, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলির ক্ষেত্রে বিদেশি দেশগুলির নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার ডাক দিয়েছেন তিনি। এগুলির সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তা জড়িয়ে। আর এই কারণেই ভারত বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের উপরে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মোদী।

সবশেষে গত ১২ বছর ধরে তাঁর সরকারকে সহযোগিতা করে চলার জন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জনগণের এই আস্থা ও অংশগ্রহণকে পাথেয় করেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’— এই মূলমন্ত্রই আমাদের পথপ্রদর্শক। উন্নত ভারত গড়ে তোলার প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো সকলের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা।’ তিনি আরও জানান, বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে এক ধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতার প্রয়োজন। কারণ, ভারতের সামগ্রিক অগ্রগতি নির্ভর করছে রাজ্যগুলির এই অগ্রগতির উপরেই।

DISCLAIMER: This channel does not promote any violent, Harmful or illegal activities. All content provided by this channel is meant for an educational purpose only.

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930