রায়া দাসঃ কলকাতাঃ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে এক মহিলা আইনজীবীর উপর হামলায় মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ওই আইনজীবী পাটুলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দাবি, তাঁর উপর ছুরি দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বাপ্পাদিত্যের মামলা থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। প্রাক্তন কাউন্সিলরের লোকজনই এই কাজ করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মহিলা। থানায় এফআইআরের আবেদন জানিয়েছেন।

তোলাবাজি, ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগে বাপ্পাদিত্যকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পাটুলি থানার পুলিশ। অভিযোগকারী আদালতে ওই সংক্রান্ত মামলার আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সেখান থেকেই তাঁকে সরে যেতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর পেশার কারণে তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কারণ, তিনি বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এবং জনৈক সৌরভ ঘোষের মামলার সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি ইতিমধ্যে তিনি পাটুলির ওসি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ পুলিশের শীর্ষকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

অভিযোগ, এই সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতেই রাতে পাটুলি থানায় যাচ্ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই মহিলার পিছু নিয়েছিলেন কয়েক জন। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে আশঙ্কাই সত্যি হয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে দু’জন সামনে চলে এসে এলোপাথাড়ি ছুরি চালিয়ে দেন। পালানোর সময় হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘এটা ট্রায়াল দিলাম। বাপ্পাদিত্য আর সৌরভের সব কেস থেকে সরে যা। নয়তো পরের বার পুরো ঢুকিয়ে দেব।’’ উল্লেখ্য, বাপ্পাদিত্যের পাশাপাশি যে সৌরভের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তিনি পাটুলিতে বাপ্পাদিত্যের ওয়ার্ডেরই তৃণমূলের যুব সভাপতি। তাঁকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
দুষ্কৃতীরা বাপ্পাদিত্য এবং সৌরভের নাম করায় ওই আইনজীবীর মনে হয়েছে, তারা তাঁদেরই অনুগামী। অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন বাপ্পাদিত্য। আগে বিজেপি করতেন। ২০১০ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে প্রথম বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এলাকায় তাঁর এবং সৌরভের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। সৌরভকে গ্রেফতারের পরের দিনই বাপ্পাদিত্যকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আপাতত দু’জনেই আছেন পুলিশি হেফাজতে।










