"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

হাইকোর্টের রায় স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিল ৩২ হাজার পরিবারে

Share

চয়ন রায়ঃ কলকাতাঃ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেওয়ার পরেই হাঁপ ছেড়ে বাঁচল ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের পরিবার। উল্লাস আর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন শিক্ষকেরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার আগের রায় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেছেন, সিঙ্গল বেঞ্চের রায় যে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ছিল তা এই রায়ে প্রমাণিত হল। সত্যের উদ্ঘাটন হল। সত্যের জয় হল। ডিভিশন বেঞ্চের রায় বেরোনোর পরেই জেলায় জেলায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল। কোথাও কোথাও আবার আবীরখেলায় মাতেন শিক্ষকেরা। কোথাও আবার মিষ্টি বিতরণও হল।

বুধবার সকাল থেকেই এই মামলার দিকে নজর ছিল গোটা রাজ্যের। বিশেষ করে ৩২ হাজার শিক্ষকের, যাঁদের নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। সকাল থেকেই আদালতের বাইরে ভিড় জমাতে থাকেন শিক্ষকেরা। তাঁদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠার ছাপ ধরা পড়েছিল। কিন্তু অনেকে আবার আশাবাদীও ছিলেন যে, তাঁদের জয় হবেই। আর হলও তা-ই। দীর্ঘ দু’বছর ধরে যে লড়াই তাঁরা চালিয়ে গিয়েছেন, সেই লড়াইয়ে জয় পেতেই উচ্ছ্বাস আর আনন্দে ভাসলেন তাঁরা। আদালত চত্বরে কারও মুখে হাসি ধরা পড়ল। কেউ আবার আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন।


এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘আজকে মনে হচ্ছে যেন প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে পারছি। গত দু’বছর ধরে যে অপমান, লাঞ্ছনা এবং মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে। এই রায়ের পর এক নিমেষে সব উধাও হয়ে গিয়েছে।’’ অন্য এক শিক্ষক আবার বলেছেন, ‘‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এই লড়াইয়ে যখন নেমেছি, জয় আমাদের হবেই। আজ সত্যের জয় হল। আমরা জিতলাম। আমাদের লড়াই জিতল।’’ অন্য এক শিক্ষক বলেন, ‘‘ ৩২ হাজার চাকরি বাতিল ঘোষণা পর দানবীয় উল্লাস দেখেছিলাম। আজ তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছি। বাসে, ট্রেনে উপহাস করা হয়েছে। শুনতে হয়েছে ২৬ হাজার গেছে, ৩২ হাজার যাবে। কিন্তু হাই কোর্টের এই রায় আবার প্রমাণ করল সত্যের জয় হয়।’’


২০২৩ সালে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায় দিয়েছিল হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। তার পর থেকে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন এই শিক্ষকেরা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন। তাই সেই শিক্ষকেরা আজ এই লড়াইয়ের ফসল তুলে নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের ঘরে। পরিবারের সামনে গিয়ে আজ মাথা তুলে দাঁড়াবেন। অনেকে বলছেন, যে ভাবে এত দিন ধরে রাস্তাঘাটে, আত্মীয়স্বজনদের কাছে এবং পরিচিতদের কাছে উপহাসের পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, হাই কোর্টের এই রায় তার যোগ্য জবাব দিল।

বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলা রায় দেয়। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ‘‘এত দিন চাকরি করেছেন ৩২ হাজার শিক্ষক। তাঁদের পরিবারের কথা ভেবে আদালত চাকরি বাতিল করছে না।’’ এর আগে স্কুল সার্ভিস কমিশনে দুর্নীতির অভিযোগে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টেও সেই নির্দেশ বহাল থাকে। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল করে শীর্ষ আদালত জানায়, নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে কমিশনকে। সেই অনুযায়ী নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিকের ক্ষেত্রে তা হল না। হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ দুর্নীতির অভিযোগ মেনে নিয়েও জানাল, শিক্ষকদের পরিবারের কথা ভেবে চাকরি বহাল রাখা হল।


DISCLAIMER: This channel does not promote any violent, Harmful or illegal activities. All content provided by this channel is meant for an educational purpose only.

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031