নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নয়া দিল্লিঃ বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়োগ করা হল দীনেশ ত্রিবেদীকে। সোমবার বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। শীঘ্রই তিনি দায়িত্বগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।

এতদিন বাংলাদেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন প্রণয় বর্মা। তাঁর জায়গায় এ বার দায়িত্বগ্রহণ করবেন দীনেশ। অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে তারেক রহমানের জমানায় নয়াদিল্লির এই নিয়োগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাভাষী দীনেশ শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কিত জানা-বোঝাই নয়, বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন দীনেশ। গুজরাতি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর কনিষ্ঠপুত্র দীনেশ বাংলায় ঝরঝরে কথা বলেন। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক হন। তার পর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ। আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-’৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সাংসদ ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল গঠন করেন, সেই দলে যোগ দেন দীনেশ এবং দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০২-’০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর মমতা রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লে, সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। কিন্তু রেলের ভাড়া বাড়ানোয় তাঁর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মমতা। তাঁকে রেলমন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তিনি আবার তৃণমূলের প্রার্থী হন। কিন্তু সে বার বিজেপির অর্জুন সিংহের কাছে হেরে যান। তার পর তৃণমূল তাঁকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছু দিন পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয় দীনেশের। ২০২১ সালে ৬ মার্চ পদ্মশিবিরে যোগ দেন তিনি। রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন। এখন বিজেপিতেই রয়েছেন দীনেশ।











