নিজস্ব সংবাদদাতাঃ পাঞ্জাব ট্রেনের এসি কামরায় চড়ে যাত্রা করেছিলেন এক দম্পতি পরিবার। অভিযোগ, ট্রেন থেকেই চুরি হয়ে গিয়েছিল টাকা-সোনার গয়না সমেত ব্যাগ। সেই ব্যাগের মধ্যে ছিল সোনার মঙ্গলসূত্রও। ৫ বছর আগের ওই ঘটনায় ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে মামলা দায়ের করেছিলেন দম্পতি। সেই মামলায় ভারতীয় রেলকে ৮০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল পাঞ্জাবের পাঠানকোটের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশন।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। ১৪ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের বাসিন্দা ওই দম্পতি তাঁদের সন্তানকে নিয়ে ডিব্রুগড়-নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসে যাচ্ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণির এসি কামরার টিকিট ছিল তাঁদের। অভিযোগ, ট্রেনের মধ্যে থেকেই তাঁদের একটি হ্যান্ডব্যাগ চুরি হয়ে যায়। সেই ব্যাগের মধ্যে প্রায় ১৫ গ্রাম ওজনের একটি সোনার মঙ্গলসূত্র ছিল। এ ছাড়াও ছিল নগদ ৫,০০০ টাকা এবং ব্যাঙ্কের পাসবুক। ঘটনার পরে তাঁরা পুরো বিষয়টি RPF (Railway Protection Force) এবং TTE (Travelling Ticket Examiner-কে জানান। দিল্লিতে পৌঁছে তাঁরা একটি Zero FIR দায়ের করেন এবং পরে ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা চলাকালীন উত্তর রেলের তরফে দাবি করা হয় যে, এই ঘটনায় সঠিক সময়ে স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

যদিও, মামলাকারীর তরফে RPF ও TTE-কে অভিযোগ জানানোর তথ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নিউ দিল্লি স্টেশনে দায়ের করা Zero FIR-এর তথ্যও জমা দেন ওই পরিবার। উল্টো দিকে, কমিশনের তরফে সেই দিনের ট্রেনের কোচ অ্য়াটেনড্যান্ট ও আরপিএফের ডিউটি রস্টারের কপি চাওয়া হলেও রেল তা জমা দিতে পারেনি। এই মামলার রায়ে কমিশন উত্তর রেলকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। রেলের তরফে ওই পরিবারকে যথাযথ সুরক্ষা এবং পরিষেবা দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন কমিশনের প্রেসিডেন্ট কুলবিন্দর সিং পান্নু এবং কমিশনের সদস্য রাজকুমার শুক্লা। এই মামলায় রেলকে খোয়া যাওয়া জিনিসগুলির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭০,০০০ টাকা এবং পরিবারটির মানসিক হেনস্থার জন্য ১০,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here









