"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

"INDIAN PRIME TIME" MSME Registration No: UDYAM - WB - 10 - 0189506

তিন দিনের জন্য ইডির হেফাজতে অনুব্রত

Share

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ নয়া দিল্লিঃ অনুব্রত মণ্ডলকে নিজেদের হেফাজতে পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তা-ও তিন দিনের জন্য। রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিচারক রাকেশ কুমার মঙ্গলবার গরু পাচার মামলায় অনুব্রতকে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তার আগে যদিও মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর এজলাসে শুনানি নিয়ে চলে মহানাটক। প্রথমে ভার্চুয়াল পরে বিচারকের বাড়িতে বসে এজলাস।

মঙ্গলবার রাতে অনুব্রতকে নিয়ে দিল্লি পৌঁছনোর পরই ইডি বিচারক রাকেশ কুমারের এজলাসে শুনানির আবেদন জানায়। বুধবার হোলি উপলক্ষে আদালত ছুটি। তাই মঙ্গলবার রাতেই তারা রাকেশ কুমারের এজলাসে ভার্চুয়ালি হাজির করায় অনুব্রতকে। রাত ১১টা ২০ নাগাদ শুরু হয় সেই শুনানি। কিন্তু আধঘণ্টার মধ্যেই সেই শুনানি মাঝপথে স্থগিত হয়ে যায়। সিদ্ধান্ত হয়, দু’পক্ষই যাবে বিচারকের বাড়ি। সেই মতো অনুব্রতকে নিয়ে ইডি আধিকারিকেরা যান রাকেশ কুমারের বাড়ি।


দীর্ঘ সময় ধরে ইডি বিচারকের বাড়ির উদ্দেশে দৌড়ে বেড়ায় রাজধানীর রাজপথে। শেষে রাত ১টা নাগাদ তারা পৌঁছয় অশোকবিহারে বিচারক রাকেশ কুমারের বাড়িতে। অনুব্রতের আইনজীবীও সঙ্গে ছিলেন। বিচারকের সামনে সশরীরে হাজির করানো হয় অনুব্রতকে। রাত ১টা ১০ নাগাদ সওয়াল শুরু করে দু’পক্ষ। ইডির আইনজীবী বিচারককে জানান, গরু পাচারের টাকা কোথায় গিয়েছে, তা জানার জন্য হেফাজতে নিয়ে অনুব্রতকে জেরা করা দরকার। সওয়াল জবাব শুরুর কিছু ক্ষণ পরেই অনুব্রতকে ৩ দিন ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। ইডি যদিও ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজত চেয়েছিল। গোটা পর্বে অনুব্রত সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। এমনকি, দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ইডি দফতর বা সেখান থেকে বিচারকের বাড়ি— কোনও জায়গাতেই অনুব্রতকে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবও দিতে দেখা যায়নি।


বিচারকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুব্রতের আইনজীবী মুদিত জৈন জানিয়েছেন, ইডির হেফাজতে থাকাকালীন রোজ হাসপাতালে তাঁর মক্কেলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অনুব্রতের আইনজীবীরা প্রতি দিন আধ ঘণ্টার জন্য তাঁদের মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। আগামী ১০ মার্চ সকাল ১০টায় আবার ইডিকে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে অনুব্রতকে হাজির করাতে হবে।

মঙ্গলবার রাতেই অনুব্রতকে নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছিল ইডি। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাঁকে ভার্চুয়ালি হাজির করানো হয় আদালতে। ১১টা ২০ নাগাদ শুনানির শুরুতেই বিচারক রাকেশ কুমার বলেন, ‘‘অনেক দিন পরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিলাম। তাই একটু সমস্যা হচ্ছে।’’ ইডির আইনজীবী নীতেশ রানা ১৪ দিনের জন্য কেষ্টকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান।


তবে অনুব্রতের আইনজীবী মুদিত বলেন, ‘‘এই মামলায় ভার্চুয়াল হাজিরা হওয়া উচিত নয়। সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কথা।’’ ওই আইনজীবীর অভিযোগ, মক্কেলের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা বলা হয়নি। তিনি কথা বলার সুযোগই পাননি। অনুব্রতের আইনজীবী এ-ও জানান, মঙ্গলবার টানা সফর করতে হয়েছে তাঁর মক্কেলকে। তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অনুব্রত অসুস্থ। তাঁকে সময় দেওয়া হোক। এখন হাজিরা বাতিল করা হোক বলে আর্জি জানান মুদিত। তাঁর সওয়াল, ‘‘কলকাতা হাই কোর্ট অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থার উপরে জোর দিয়েছে। এই অবস্থায় মাঝরাতে হাজির করানো উচিত নয় অনুব্রতকে। এখানকার হাসপাতাল যে রিপোর্ট দিয়েছে তা-ও সন্তোষজনক নয়। অন্তত সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক।’’

ইডির আইনজীবী যদিও পাল্টা সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতিতে অনেক সময় ভার্চুয়াল পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়েছে। অনুব্রতের আইনজীবীই তো সশরীরে হাজির হননি!’’ বিচারকের উদ্দেশে ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘তা হলে ৩০ মিনিট সময় দিন। অনুব্রতকে নিয়ে বাড়ি (আপনার) আসছি।’’ এর পরেই ঠিক হয় অনুব্রতকে নিয়ে বিচারক রাকেশ কুমারের বাড়িতে যাবে ইডি। শেষ হয়ে যায় ভার্চুয়াল শুনানি।

এর আগে দিল্লিযাত্রা আটকাতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু গত শনিবার আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি, দিল্লি এবং কলকাতা হাই কোর্টে আবেদনে তথ্যগোপন করায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

DISCLAIMER: This channel does not promote any violent, Harmful or illegal activities. All content provided by this channel is meant for an educational purpose only.

Share this article

Facebook
Twitter X
WhatsApp
Telegram
 
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930