নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শিলিগুড়িঃ বাগডোগরা বিমান বন্দরের নয়া টার্মিনাল। শনিবার যাত্রী সুবিধা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন বাগডোগরা এয়ারপোর্টের ডিরেক্টর নাভেদ নিজাম। ২০২৪-এ বাগডোগরার বর্তমান বিমানবন্দরের পাশেই প্রায় একশো একর জমিতে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয় নয়া টার্মিনালের।

জমি জটের জন্য কিছুদিন দেরি হলেও ২০২৫-এ কাজ শুরুর পরে এখন দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। এখন যেখানে বিমানবন্দরে বছরে গড়ে ৩৬ লক্ষ যাত্রী ওঠানামা করতে পারেন, নয়া টার্মিনাল তৈরি হলে অন্তত এক কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। নয়া টার্মিনাল তৈরি হলে আন্তর্জাতিক উড়ানের জন্য পৃথক লাউঞ্জ এবং সিকিউরিটি চেকিং ব্যবস্থা চালু হবে। এখন সবটাই হয় একসঙ্গে। ফলে যাত্রীদের হেনস্থার শেষ নেই। সকাল দশটা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের লাউঞ্জে পা রাখার জায়গা থাকে না। লাউঞ্জে যাত্রী পরিষেবার ব্যবস্থা থাকলেও পার্কিং নিয়েও সমস্যা রয়েছে। নয়া বিমানবন্দর চালু হলে এই সমস্যার অবসান হবে বলে দাবি বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের। পার্কিং ব্যবস্থার পাশাপাশি যাত্রীদের রাতে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।

একদা উত্তরবঙ্গের ছোট এই বিমানবন্দরটি ২০০১-এর পরে কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আসে। ধীরে ধীরে যাত্রী পরিষেবা বাড়তে শুরু করে। বিমানবন্দরের রানওয়ে মেরামত, রাতে বিমান ওঠানামার সুবিধে, অন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বাগডোগরা থেকে গ্যাংটক হেলিকপ্টার পরিষেবাও নিয়মিত করা হয়। ততদিনে পর্যটন ব্যবায়ীদের নজরে পড়ে গিয়েছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিম। ফলে চাপ বাড়তে শুরু করে বাগডোগরা বিমানবন্দরের। তার সঙ্গে যাত্রী পরিষেবা বাড়াতে দেশের নানা প্রান্তে বিমান চলাচল শুরু হয়। মুম্বই, আগরতলা, ইম্ফল এবং পুণে যাত্রী পরিষেবা আওতায় আনা হয়। এখন দিনে গড়ে ৪২টি বিমান নামে বাগডোরায়। ফলে কলকাতার পরে রাজ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় উঠে এসেছে বাগডোগরা।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
এখন ভুটান ছাড়াও বাগডোগরা থেকে থাইল্যান্ডে যাতায়াত করা যায়। নয়া টার্মিনাল তৈরি হলে আরও কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিমান পরিষেবা চালু করা যাবে বলে স্থির হয়েছে। বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বলেন, ‘চিকেন নেক বলেই শিলিগুড়িকে নানা ধরনের পরিকাঠামো জনিত সুবিধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আরও নানা পরিষেবা আসছে। তবে নয়া টার্মিনাল চালু হলে এই এলাকায় বিমানপরিষেবার মান আরও বাড়বে।’










