নিজস্ব সংবাদদাতাঃ উত্তর চব্বিশ পরগণাঃ ‘এখানে নয়, স্টোর রুমে যান’। কথাগুলো বলেই মুখটা নামিয়ে নিলেন এক ব্যক্তি। স্টেশন ম্যানেজারের ঘর থেকে চুপচাপ বেরিয়ে এলেন নিউ ব্যারাকপুরের প্রোমোটার অসীম সিকদার। সিঁড়ি দিয়ে নেমে ঢুকে গেলেন স্টোররুমে। একজন যেন তাঁর অপেক্ষাতেই ছিল। ঘরে ঢুকতেই হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘দিন।’

প্রথম কিস্তির ঘুষের টাকা নিজে হাতে নেননি নিউ ব্যারাকপুরের ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা লিমিটেড’ (WBSEDCL)-এর স্টেশন ম্যানেজার কৃষ্ণচন্দ্র দাস। অসীমের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ ও ট্রান্সফর্মার বসানোর জন্য সরকারি নিয়ম মেনে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, তার পরেও ঘুষ চান কৃষ্ণচন্দ্র। দাবি অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির দেড় লক্ষ টাকা তিনি জমা দেন স্টোররুমে। কিন্তু অভিযোগ, তার পরে আরও ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন কৃষ্ণচন্দ্র। সেই সময়েই দুর্নীতি দমন শাখার দ্বারস্থ হন অসীম। সেই অনুযায়ী ফাঁদ পাতা হয়।

অসীমের দাবি, এর পরেই কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে দর কষাকষি শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় রফা হয়। মঙ্গলবার সেই টাকা নিয়ে সরাসরি পৌঁছে যান কৃষ্ণচন্দ্রের অফিসে। তক্কে তক্কে ছিল দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। অভিযোগ, টাকায় হাত দিতেই কৃষ্ণচন্দ্রকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তাঁরা। প্রায় দশ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, কৃষ্ণচন্দ্রের বাড়ি বহরমপুরে। ২০২০-তে নিউ ব্যারাকপুর বিদ্যুৎ দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার হয়ে আসেন তিনি। পুরাতন বাজারের একটি আবাসনে ভাড়া থাকতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার তাঁর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আমফানের সময়ে এলাকার বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে লন্ডভন্ড অবস্থা হয়েছিল। সেই সময়ে দ্রুত কাজ করে বিদ্যুৎ চালু করে দিয়েছিলেন তিনি।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
সেই কৃষ্ণচন্দ্রকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন অনেকেই। অসীমের অভিযোগ, এই ঘটনায় বিদ্যুৎ দপ্তরের আরও কয়েক জন কর্মীর ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের কথাও রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখাকে জানিয়েছেন তিনি। স্টোর রুমের সেই লোকটাকেও চিনিয়ে দিয়েছেন তদন্তকারীদের। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করাতেও ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ। অসীমের অভিযোগ, এর জন্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। শুধু তিনি নন, আরও অনেক প্রোমোটারকেই এই ধরনের আর্থিক লেনদেনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি তিনি।










