মিনাক্ষী দাসঃ উত্তর চব্বিশ পরগণাঃ প্রতিবছরই বেশিরভাগ বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে কিছু না কিছু চমক থাকে। পুজোর থিম, মণ্ডপের সাজ হয় নজরকাড়া। আর থাকে প্রতিমার বিশেষত্ব। আড়ালে থেকে এই কাজ যারা করেন তাঁদের ভাবনায় ফুটে ওঠে মণ্ডপ ও প্রতিমা। আর এই শিল্পকর্মের মধ্যে এ বছর নজর কেড়েছেন হাবরার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার।

ইন্দ্রজিৎ কখনও তৈরি করেছেন আমেরিকান ডায়মন্ডের প্রতিমা। আবার কখনও লোহা, ফাইবার, সামুদ্রিক জিনিস হয়ে উঠেছে মায়ের সাজের উপকরণ। পরিচিত এই আলাদা চিন্তাধারার কাজের জন্যই জনপ্রিয় ইন্দ্রজিৎ। এ বছর তিনি আমেরিকান ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি করেছেন দুর্গা প্রতিমা। গত আগস্ট মাসে শুরু হয়েছে এই প্রতিমা গড়ার কাজ। দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিকের মূর্তিও সাজানো হয়েছে আমেরিকান ডায়মন্ড দিয়েই। আনুমানিক এক কোটি পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। নিখুঁত হাতের কাজ ও মণ্ডপের আলোর রোশনাইয়ে মায়ের প্রতিমার সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তুলেছেন ইন্দ্রজিৎ। এই প্রতিমা সোদপুরের একটি পুজো কমিটির জন্য তৈরি করেছেন তিনি।

এছাড়া, প্রায় ১৬ কুইন্টাল পরিত্যক্ত লোহাকে কাজে লাগিয়ে নদিয়ার পলাশীপাড়ার জন্য এক অভিনব দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন ইন্দ্রজিৎ। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা ও ১২ ফুট প্রস্থের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। জুন মাসে শুরু হয়েছিল এই কাজ। পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা লোহাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় তা হয়ে উঠেছে শিল্পকর্ম। এছাড়াও বরানগর ও বারাসাতের পুজো কমিটির জন্য ফাইবারের উপর চিত্রকলার প্রয়োগ ও সামুদ্রিক উপকরণ দিয়ে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখা যাবে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Here
ইন্দ্রজিৎ জানান, এ বছর চারটি মূর্তি তৈরি করেছেন। তাঁর কথায় সোদপুর পুজো কমিটির জন্য তৈরি প্রতিমা সব থেকে আকর্ষনীয় হতে চলেছে। ৪৯ বছরে সাবেকি আনার বদলে অন্যরকম ভাবে মায়ের মূর্তি চেয়েছিলেন পুজো উদ্যোক্তারা। সেই কারণেই এমন ভাবনা। প্রায় ৭ রকমের রঙিন আমেরিকান ডায়মন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য মূর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষত্ব রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই দুর্গাপ্রতিমা গুলি রওনা হয়েছে মণ্ডপের উদ্দেশ্যে। হাবড়ার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারের অভিনব শিল্পকর্ম দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে বলেই আশা পুজো উদ্যোক্তাদের।










