রায়া দাসঃ কলকাতাঃ মাধ্যমিক পাস করার পরে রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। তিন বারের বিধায়ক, সামলেছেন মন্ত্রীর দায়িত্ব। ৪০ বছরের রাজনীতির জীবনের শেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পর্যুদস্ত হয়েছেন তিনি। এ বার রাজনীতি ছাড়ার কথা বললেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর থেকে তাঁকে সে ভাবে রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি। সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চেও তাঁকে দেখা যায়নি।
প্রাক্তন মন্ত্রী বলছেন, ‘‘মানুষ যখন প্রত্যাখ্যান করেছেন তখন আমার মনে হয়েছে আর প্রয়োজনীয়তা নেই রাজনীতির। তাই রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই। রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন বলেই নির্বাচনে এই ফলাফল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কাজ করেছেন, হয়তো আরও করতেন বা অনেক করতে পারেননি। মানুষ বিকল্প চেয়েছে, আরও উন্নয়নের জন্য পরিবর্তন করেছে। হারজিত গণতন্ত্রে আছে।’’ স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতে, ‘‘অসৎ, অসৌজন্যতা, অশালীনতা, কুৎসা, অপপ্রচার যে ভাবে রাজনীতিতে চলছে সেটা মোটেও ভালো নয়। এই রাজনীতির স মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। মানুষ এখন দায়িত্বহীন করেছে, তাই রাজনীতির মধ্যে ফেরার আর প্রয়োজনীয়তা নেই।’’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লড়াকু নেতা বলে প্রশংসা করেছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি বলছেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী ভালো লিডার ,তিনি আমাদের দলের লিডার ছিলেন। আমি খারাপ বলবো কি করে…বিরোধী দলের নেতা হিসেবে লড়াই করেছেন। তিনি অভিজ্ঞ। আশা করি বাংলার ভালো কিছু করতে পারবেন।’ তাঁর মতে বাংলার মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর উপর আস্থা রেখেছে বলেই তাঁকে জিতিয়েছে।
Sponsored Ads
Display Your Ads Hereমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর একটি পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। প্রশাসনিক মিটিংগুলিতে বিরোধী দলের বিধায়কদের ডাকার প্রশংসা প্রাক্তন মন্ত্রীর মুখে। সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আমাদের সময় বিরোধীদলের কাউকে ডাকা হতো না। সেটা কেন, সেই প্রশ্নে আমি যেতে চাই না।’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে জুলুম, দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। সেগুলো যাতে আর না ফিরে আসে, সেদিকে সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে শাসক দলকে, নতুন সরকারের প্রতি পরামর্শ প্রাক্তন মন্ত্রীর। তাঁর সঙ্গেই স্নেহাশিস চক্রবর্তীর আশা, ‘পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ হওয়া উচিত।’









